
অবৈধ সম্পর্ক থেকে গোপন জঙ্গি যোগ রোহিঙ্গা নারীসহ আরাকান আর্মির সোর্স সদস্য গ্রেফতার
নিজস্ব প্রতিবেদক:
অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্ব পাওয়া এক রোহিঙ্গা নারী ও মিয়ানমারের সশস্ত্র সংগঠন আরাকান আর্মি–এর এক সদস্যকে কক্সবাজারের উখিয়া থেকে র্যাবের বিশেষ অভিযানে আটক করা হয়েছে।
সূত্র জানায়, আটক নারী রেহেনা আক্তার (৩৫) এবং আরাকান আর্মির সদস্য আব্দুর রহিম নুরুল হক (৩২) দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে অবস্থান করে গোপনে অবৈধ সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সংবেদনশীল এলাকায় আশ্রয় গ্রহণ করেন।
তদন্তে জানা গেছে, রেহেনা আক্তার ও তার স্বামী মোহাম্মদ নাসিম উদ্দিন ইসলামি শরিয়ত মোতাবেক বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করে চার সন্তানের জনক-জননী হন তারা এবং পরে অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকত্বও লাভ করেন।
কিন্তু সুখের সংসারে অশান্তি দেখা দেয় যখন রেহেনা আক্তার অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থানকালে একাধিক রোহিঙ্গা পুরুষের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বামী নাসিম উদ্দিন পারিবারিক শান্তি রক্ষায় তাকে অনুতপ্ত হয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ দেন।
তবে পরবর্তীতে রেহেনা গোপনে সৌদি প্রবাসী ও আরাকান আর্মির সদস্য আব্দুর রহিম নুরুল হকের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে। দু’জন মিলে “রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে বাংলাদেশে আসা”র অজুহাতে দেশে প্রবেশ করেন।
বাংলাদেশে এসে তারা উখিয়ার শরণার্থী ক্যাম্প এলাকার বাইরে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময়ে ভাড়া বাসা নিয়ে সহবাস শুরু করেন। একাধিকবার অবস্থান পরিবর্তন করে আত্মগোপনে থাকলেও শেষ পর্যন্ত র্যাবের গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে উখিয়ার মরাগছতলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।
অভিযানে উদ্ধারকৃত আব্দুর রহিম নুরুল হক–এর কাছ থেকে কিছু গোপন নথি, যোগাযোগ ডিভাইস ও পাসপোর্ট সম্পর্কিত তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে বলে র্যাব সূত্রে জানা গেছে। পরে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের পর উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে রেহেনা আক্তারের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, তিনি দ্বৈত নাগরিকত্বধারী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিদেশি নাগরিক আইনের অধীনে তদন্ত চলছে। র্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, “মিয়ানমারের বিদ্রোহী সংগঠনের সঙ্গে জড়িত থাকা এবং অবৈধভাবে বাংলাদেশে অবস্থান — উভয় অভিযোগেই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে কিছু রোহিঙ্গা নাগরিক বিদেশফেরত পরিচয়ে দেশে এসে ক্যাম্পের বাইরে অবস্থান করছে, যা নিরাপত্তার জন্য উদ্বেগজনক। এ ঘটনায় রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে বলে এলাকাবাসীর মন্তব্য।