

উখিয়ায় জরুরী সেবা ৯৯৯-এ ফোন, পুলিশের অভিযানে ঘরে বন্ধী স্কুলছাত্রী উদ্ধার!
শাকুর মাহমুদ চৌধুরী , উখিয়া
কক্সবাজারের উখিয়ায় এক স্কুলছাত্রীকে নিজ বসতবাড়ি থেকে তুলে নিয়ে অবৈধভাবে আটক রাখার অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয়ভাবে চিহ্নিত এক সন্ত্রাসী দম্পতি এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এসময় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রীকে উদ্ধার করে।
বুধবার, (১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে রাজাপালং ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ড ধলিয়াঘোনা এলাকার ছৈয়দ আলম (৪৫), পিতা- আব্দুল বারি, মাতা- ছলেমা খাতুন। রোমা আক্তার (২৮), স্বামী- ছৈয়দ আলম দুজনেই দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কার্যকলাপের সঙ্গে জড়িত বলে স্থানীয়রা জানায়।
ভুক্তভোগী লামিয়া আক্তার সুমাইয়া (১৭), কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী। তিনি অভিযোগে উল্লেখ করেন, আমি অসহায় ও পর্দানশীল এক ছাত্রী। প্রতিনিয়ত অভিযুক্তরা আমাকে খুন-জখমের হুমকি দিচ্ছিল। ওই দিন আমি বই নিতে বাড়ি গেলে তারা হঠাৎ হামলা চালিয়ে আমাকে গুরুতর জখম করে টেনে-হিঁচড়ে নিজেদের বাড়িতে নিয়ে যায় এবং একটি কক্ষে আটকে রাখে।
লামিয়ার চিৎকার শুনে প্রতিবেশী নুরুল ইসলাম, নুরুল কবির, নুরুল আলম ও মো. সেলিমসহ অনেকে ছুটে এলে অভিযুক্তরা তাদেরকে ধারালো অস্ত্র দেখিয়ে বলে, তোমরা কাছে আসলে খুন করে ফেলবো। তাদের ধাওয়া খেয়ে স্থানীয়রা প্রাণ বাঁচাতে সরে দাঁড়ান।
পরবর্তীতে স্থানীয়রা ৯৯৯-এ ফোন করলে উখিয়া থানার এসআই মিজানুর রহমান সঙ্গী ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে লামিয়াকে উদ্ধার করেন। আহত অবস্থায় তাকে স্থানীয় ফার্মেসিতে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
ঘটনার পর স্কুলছাত্রী লামিয়া উখিয়া থানায় হাজির হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। এতে প্রধান আসামি হিসেবে ছৈয়দ আলম ও তার স্ত্রী রোমা আক্তারসহ অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জিয়াউল হক জানান, অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনার পর ধলিয়াঘোনা এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা প্রশাসনের কাছে দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনা শুধু একটি স্কুলছাত্রী নয়, পুরো এলাকার নারী ও কিশোরীদের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ ধরনের অপরাধ আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।