
উখিয়ায় বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সে অর্থ আত্মসাৎ, ডিলার শপের ডি.এস.আর নজরুল পলাতক
সাব হেডলাইট : ঈদগাহর প্রতারক নজরুলের সন্ধান অথবা ধরে দিতে পারলে উপযুক্ত পুরষ্কার প্রধানের ঘোষণা
মোহাম্মদ রাশেদ : উখিয়া প্রতিনিধি
উখিয়ার রাজাপালং ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের জাদিমুড়া স্টেশন সংলগ্ন হক সাহেবের বিল্ডিংয়ের নিচতলায় দীর্ঘদিন ধরে অলিম্পিক, ফুডি ও ভোল্ট পণ্যের ডিলারশিপ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন নোয়াখালীর আবু নাসের মিলন। ২০১৩ সাল থেকে উখিয়ায় ডিলার শপ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত থেকে স্থানীয়দের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করে তিনি এখন পর্যন্ত ১১ জনকে চাকরি দিয়ে নিয়মিতভাবে প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে আসছেন।
তবে হঠাৎ করেই তার পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে ঘটে যায় একটি প্রতারণার ঘটনা। গত ৮ আগস্ট ২০২৫ সালে ডিস্ট্রিবিউশন সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ (ডি.এস.আর) পদে নিয়োগ দেওয়া হয় নজরুল ইসলাম নামে এক ব্যক্তিকে। তার স্থায়ী ঠিকানা ঈদগাহ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বেড়াপাড়ায় হলেও, নানার বাড়ি রাজাপালংয়ে হওয়ায় তিনি সেখান থেকেই প্রতিদিন বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সে যাতায়াত করে চাকরি করে আসছিলেন।
প্রতিষ্ঠানের মালিক আবু নাসের মিলন জানান, নজরুল আমার ডিলারশিপে মাত্র এক মাস আগে চাকরি নিয়েছে। ঘটনার দিন, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে, প্রতিদিনের মতো মালামাল নিয়ে সোনারপাড়ায় সাপ্লাই করতে যায়। সাধারণত রাত ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে সে ফিরে আসে। কিন্তু ওইদিন রাত ৮টায় তাকে ফোন দিলে রিং হলেও সে ফোন রিসিভ করেনি। কিছু সময় পর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। রাত ১১টা পর্যন্ত কোনো খোঁজ না পেয়ে আমাদের সন্দেহ জাগে।
পরবর্তীতে সোনারপাড়া এলাকায় খোঁজ নিতে গেলে স্থানীয় দোকানদাররা জানান, নজরুল ইসলাম তাদের কাছ থেকে মালামালের টাকা নিয়েছে, কিন্তু এরপর আর তাকে দেখা যায়নি। পরদিন নজরুলের পরিবারের কাছে গেলে তারা একদিন সময় চেয়ে তাকে উপস্থিত করার আশ্বাস দেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হাজির না করায় আবু নাসের মিলন ঈদগাহ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
আবু নাসের মিলন বলেন, প্রতিবার যখন একজন কর্মীর ওপর ভরসা করে দায়িত্ব দেই, তখনই কেউ না কেউ বিশ্বাস ভঙ্গ করে এমন প্রতারণা করে। আমি কীভাবে ব্যবসা পরিচালনা করব? আমার প্রতিষ্ঠানটিতে ১২ জন কর্মচারী কাজ করেন। তাদের পরিবার চলে এই আয়ের ওপর। এভাবে প্রতারণা হলে আমি বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ব।
তিনি আরও বলেন, যদি কেউ নজরুলের সন্ধান দিতে পারেন, বা তাকে প্রশাসনের হাতে তুলে দেন, আমি তার জন্য উপযুক্ত পুরস্কারের ব্যবস্থা করব।
বিসমিল্লাহ ট্রেডার্সের ম্যানেজার মুফিজুর রহমান বলেন, আমি ১০ বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছি। এর আগেও এমন ঘটনা ঘটেছে, এখন নজরুলের মতো কর্মচারী আবারও একই কাজ করল। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো ডিলারশিপ থাকবে না, আমাদের চাকরিও থাকবে না।
তিনি আরও বলেন, নজরুল পালিয়ে যাওয়ার পর অন্যান্য স্টাফরাও ব্যাপক ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। আমরা চাই নজরুলকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে আমাদের টাকা ফিরিয়ে দেওয়া হোক এবং তাকে এমন শাস্তি দেওয়া হোক যাতে কেউ ভবিষ্যতে এ ধরনের সাহস না করে।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, বিসমিল্লাহ ট্রেডার্স ডিলারশিপ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার প্রায় ১০–১২ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। একজন কর্মচারীর এভাবে টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়া শুধু মালিক নয়, পুরো এলাকার অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি। তাই প্রশাসনের প্রতি ইঙ্গিত দিয়ে বলেন নজরুল ইসলামকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে তার কাছ থেকে টাকা আদায় এবং উপযুক্ত শাস্তির দাবি জানান।