

উখিয়া টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত পৃথক সমাবেশে জাতিসংঘের প্রতি হতাশা, বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ
মোহাম্মদ রাশেদ: উখিয়া (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গারা নানা আয়োজনে পালিত করল ৮ম রোহিঙ্গা গণহত্যা দিবস। সোমবার (২৫ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত উখিয়া ও টেকনাফের একাধিক শরনার্থী ক্যাম্পে অনুষ্ঠিত হয় পৃথক পৃথক সমাবেশ।
সবচেয়ে বড় সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় উখিয়ার ক্যাম্প-৪’বি-৬ ব্লক সংলগ্ন ফুটবল মাঠে। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের অনুমতিক্রমে আয়োজিত এ সমাবেশের সভাপতিত্ব করেন রোহিঙ্গা ফরসিবলি ডিসপ্লেসড মায়ানমার ন্যাশনাল রিপ্রেজেন্টেটিভ কমিটি (RO-FDMN-RC)’র সভাপতি মাস্টার কামাল। এতে উখিয়া-টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা অংশগ্রহণ করেন।
অন্যদিকে ক্যাম্প-১ ওয়েস্ট, ই-৬ ব্লক সংলগ্ন মফিজের খেলার মাঠে অনুষ্ঠিত সমাবেশে নেতৃত্ব দেন রোহিঙ্গা কমিটি ফর পিস এন্ড রিপাট্রিয়েশন (RCPR) সভাপতি মাস্টার দিল মোহাম্মদ। এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ৬০ হাজার রোহিঙ্গা। একই সময়ে ক্যাম্প-৯ এর ডি-ব্লক ও সাব-ব্লক সি-৬ বলি বাজার মাঠে মুফতি আনিস, মাস্টার সাদেক ও আরএসও নেতা মৌলভী মোহাম্মদ নূরেরর নেতৃত্বে প্রায় ৪হাজার রোহিঙ্গা সমাবেশে অংশ নেন।
সমাবেশে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ বলেন, আমরা আর শরনার্থী জীবন চাইনা, আমরা আমাদের মাতৃভূমি চাই। আট বছর পার হয়ে গেলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় আমাদের প্রত্যাবাসনে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি।
তারা জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রতি চিরকৃতজ্ঞ। মানবিক কারণে আমাদের জীবন বাঁচাতে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু স্থায়ী বাঁচাতে বাংলাদেশ আশ্রয় দিয়েছে। কিন্তু স্থায়ী সমাধান এখনো অধরা। চলমান রোহিঙ্গা সম্মেলন থেকে টেকসই ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমরা আশাবাদী।
সমাবেশে বিভিন্ন স্লোগানে সম্বলিত ব্যানার, মিয়ানমার ভাষায় তারানা গান, উদ্বোধনী বক্তব্য, গণহত্যা ভুক্তভোগীদের হৃদয়বিদারক স্মৃতিচারণ, শিক্ষার্থীদের বক্তৃতা ও ইংরেজি- মিয়ানমার ভাষায় বক্তব্য উপস্থাপিত হয়। শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে ক্যাম্প এলাকা, নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করো, আমাদের নেতা আবু আম্মার জুনুনিকে মুক্তি দাও, আমরা শান্তি চাই যুদ্ধ নয়। রোহিঙ্গা গণহত্যা বন্ধ করো, শরনার্থী জীবন নয়, মাতৃভূমি চাই।
অনুষ্ঠান শেষে মোনাজাতের মাধ্যমে নিহতদের রুহের মাগফেরাত কামনা ও মিয়ানমারে শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসনের দোয়া করা হয়। উল্লেখ্য, ২০১৭ সালের ২৫ আগষ্ট মিয়ানমার সেনাবাহিনীর ভয়াবহ নিপীড়ন ও গণহত্যার মুখে লাখো রোহিঙ্গাদের জীবন বাচাতে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। গত আট বছরেও তাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া কার্যকর হয়নি।