
গ্রেপ্তার–বাণিজ্যের সংবাদ প্রকাশ করায় ছাত্রলীগ কর্মী বানিয়ে সাংবাদিকের নামে চার মামলা
নিজস্ব প্রতিবেদক:
কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার চরভুরুঙ্গামারী ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বিএনপি–সমর্থক সাংবাদিক মো. আনোয়ার হোসেনকে ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী’ পরিচয় দেখিয়ে ধারাবাহিকভাবে মিথ্যা মামলা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ভুরুঙ্গামারী থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
পরিবারের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হয়রানির অংশ হিসেবে গত কয়েক বছরে তাঁর নামে পাঁচটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
পরিবার জানায়, কোনো মামলাতেই আনোয়ার হোসেনকে তাঁর প্রকৃত পরিচয়ে উপস্থাপন করা হয়নি; বরং এজাহারে ইচ্ছাকৃতভাবে তাঁকে সরকারি দলের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্মী হিসেবে দেখানো হয়েছে। অথচ তিনি দীর্ঘদিন বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এবং এলাকায় বিএনপি–সমর্থক সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। এক মামলায় জামিন পেলেই আরেক মামলায় পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। পাঁচ মাস ধরে তিনি কুড়িগ্রাম কারাগারে বন্দী।
পরিবারের অভিযোগ, ভুরুঙ্গামারী থানার দুর্নীতি, অনিয়ম ও গ্রেপ্তার–বাণিজ্যের বিরুদ্ধে আনোয়ার হোসেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ও আইজিপি বরাবরে লিখিত অভিযোগ করেছিলেন। এরপর থেকেই পুলিশ তাঁকে টার্গেট করে। প্রতিশোধ নিতে পরিকল্পিতভাবে তাঁকে ‘নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী’ বানিয়ে মামলায় জড়ানো হচ্ছে। তাঁদের ভাষ্য, “এটি শুধু একজন সাংবাদিক নয়—সাধারণ মানুষের ওপরও পুলিশি হয়রানির আশঙ্কা বাড়াচ্ছে।”
পরিবার আরও জানায়, ওসির দুর্নীতি ও গ্রেপ্তার–বাণিজ্য নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশ করায় ষড়যন্ত্রমূলকভাবে চারটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাঁদের অভিযোগ—“যেকোনো সময় আমাদের বিরুদ্ধেও সাজানো মামলা দিতে পারে। আদালতে গেলেই এসআই জাহিদের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হয়।”
ভুরুঙ্গামারী ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি আবদুল্লাহ আল মামুন বাবু বলেন, “আনোয়ার হোসেন ২০১৮ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি ছিলেন। তিনি ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ছাত্রনেতা। তাঁকে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কর্মী বানিয়ে পাঁচটি মামলা দেওয়া অত্যন্ত দুঃখজনক। এ সত্য প্রমাণে আমি পরিবারকে প্রত্যয়নপত্র দিয়েছি।”
স্থানীয় সাংবাদিকদের অভিযোগ—ওসি আল হেলাল মাহমুদ যোগদানের পর থেকেই এলাকায় গ্রেপ্তার–বাণিজ্য বেড়েছে। সাংবাদিকদের মধ্যে এখন তাঁর ভয়ের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। কেউ প্রতিবাদ করলেই ভুয়া মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও পুলিশ প্রধান বরাবরে সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ সেল, বাংলাদেশ লিখিত অভিযোগও পাঠিয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভুরুঙ্গামারী থানার ওসি মো. আল হেলাল মাহমুদ বলেন, “সাংবাদিক আনোয়ার নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিল। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।”
প্রতিদিনের কাগজ জানতে চায়—আনোয়ার হোসেন ২০১৮ সালে ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ছিলেন, এ তথ্য তিনি জানেন কি না। জবাবে ওসি বলেন, “আমি জানি না। আদালতে প্রমাণ হবে। আপনারা সংবাদ প্রকাশ করে যান।”